তারাবির নামাজ না পড়লে কি রোজা হবে? শরিয়তের স্পষ্ট বিধান ও ফজিলত

পবিত্র রমজান মাস শুরু হলে অনেক মুসল্লির মনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জাগে— তারাবির নামাজ না পড়লে কি দিনের রোজা কবুল হবে?

শরিয়তের আলোকে এ প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট ও প্রামাণ্য। রোজা ও তারাবি—দুটি আলাদা ইবাদত হলেও রমজানের পূর্ণতা পেতে উভয়েরই গুরুত্ব অপরিসীম।

রোজা: ইসলামের ফরজ ইবাদত

রোজা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি এবং প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মুসলমানের ওপর এটি ফরজ। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও দাম্পত্য সম্পর্ক থেকে বিরত থাকা শুধু শারীরিক সংযম নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া ও আল্লাহভীতির প্রশিক্ষণ।

অতএব, কেউ যদি তারাবির নামাজ আদায় না-ও করেন, তবুও শরিয়তের দৃষ্টিতে তার রোজা সহিহ ও পূর্ণাঙ্গ থাকবে, যদি রোজার অন্যান্য শর্ত যথাযথভাবে পালন করা হয়।

তারাবি সুন্নতে মুয়াক্কাদা ইবাদত

তারাবির নামাজ হলো সুন্নতে মুয়াক্কাদা—অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এটি আদায় করেছেন এবং সাহাবায়ে কেরামও নিয়মিতভাবে তা পালন করেছেন।

হাদিসে এসেছে, আল্লাহ তাআলা রমজানের রোজাকে ফরজ করেছেন এবং রাসুল (সা.) রাত্রিকালীন কিয়াম বা তারাবিকে সুন্নত করেছেন।

অতএব, তারাবি না পড়লে রোজা নষ্ট হয় না; তবে একজন মুসলমান একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত থেকে বঞ্চিত হন।

রোজা ও তারাবির গভীর সম্পর্ক

‘তারাবি’ শব্দের অর্থ বিশ্রাম বা প্রশান্তি। সারাদিনের সিয়াম সাধনার পর রাতের তারাবি নামাজ রোজাদারকে আধ্যাত্মিক প্রশান্তি দেয়।

হাদিস শরীফে বর্ণিত হয়েছে—যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের আশায় রমজানের রাতে নামাজে দাঁড়ায়, তার অতীতের ছোট গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হয়।

এ থেকে বোঝা যায়, রোজা ফরজ হলেও তারাবি সেই রোজার আধ্যাত্মিক পূর্ণতা এনে দেয়।

তারাবি ছেড়ে দেওয়া কি গুনাহ?

ফুকাহায়ে কেরাম ও বিজ্ঞ আলেমদের মতে, বিনা কারণে তারাবির নামাজ ছেড়ে দেওয়া অত্যন্ত গর্হিত কাজ। অনেক আলেম এটিকে মাকরূহে তাহরিমি, এমনকি কবিরা গুনাহের নিকটবর্তী বলে উল্লেখ করেছেন।

তবে অসুস্থতা, সফর বা বৈধ কোনো কারণে কেউ যদি তারাবি আদায় করতে না পারেন, তাহলে তিনি গুনাহগার হবেন না এবং তার রোজার সওয়াবও অক্ষুণ্ণ থাকবে।

রমজানের পূর্ণ সওয়াব পেতে করণীয়

রমজান হলো বান্দার আমলনামা ভারী করার মাস। শুধু রোজা রাখাই যথেষ্ট নয়; বরং কোরআন তিলাওয়াত, তারাবি, দান-সদকা ও ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনই প্রকৃত লক্ষ্য।

সারাদিন রোজা রেখে রাতে সামান্য সময় ব্যয় করে তারাবি না পড়া এক ধরনের অলসতা ও অবহেলার পরিচয় হতে পারে। তাই একজন মুমিনের উচিত রমজানের প্রতিটি মুহূর্তকে সওয়াব অর্জনের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা।

তারাবির নামাজ না পড়লেও রোজা সহিহ হবে—এ কথা সত্য। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে তারাবি বর্জনযোগ্য। বরং রোজার পূর্ণ বরকত, রহমত ও মাগফিরাত লাভ করতে তারাবির গুরুত্ব অপরিসীম।

রমজান আসে আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া বৃদ্ধির বার্তা নিয়ে। তাই ফরজ রোজার পাশাপাশি সুন্নতে মুয়াক্কাদা তারাবি আদায়ে যত্নবান হওয়াই একজন সচেতন মুসলমানের কর্তব্য।

Abdullah Al Rahat

As a fresh graduate, I’m passionate about supporting fellow students in reaching their academic goals.